Tuesday, August 25, 2020

 বাস্তব জিবনের_গল্প পর্বঃ ০২

বাস্তব জিবনের_গল্প পর্বঃ ০২

 বাস্তব জিবনের_গল্প

লেখক...অর্নব
পর্বঃ ০২



.
-- বাহিরে গিয়ে দেখি, পুকুরঘাটে কথা বলার সাউন্ড আসতেছে। কাছে গেলাম শব্দ নাই... হয়তো ফোনে কথা বলতেছিলো, বাট আমাকে দেখে ফোন কেটে দিছে।।
সেদিনের মতো সব গেলো, আমিও মান সন্মানের ভয়ে মুখ খুললাম না!! কতো বোকা ছিলাম, নিজের কথা চিন্তা না করে অন্যের মান সন্মানের কথা চিন্তা করেছি...
চিন্তা করেছি ভাবিকে ভাইয়া মেরে ফেলবে, মানুষ খারাপ ভাববে। ছেলে মানুষ হয়তো এমন কিছু করার অধিকার আছে, তাই করেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে...
__দিন যতো যায়, তাদের লিলাখেলা ততোই সবার নজরে আসতেছে, বাট কেউ তেমন ভাবে মুখ ফুটে বলছে না...
এর মাঝে ভাবি বাপের বাড়ি যাবে, তো মা বলছে আমার ছোট ভাই তাকে দিতে যাবে বাট ভাবি কিছুতেই মানছেন না, তিনি একাই যাবেন...
.
.
আর আমাদের গ্রামের নিয়ম বউয়েরা বাপের বাড়ি একা যায় না, শ্বশুর বাড়ি বা বাপের বাড়ি থেকে কেউ নিয়ে যায়...
বরাবর ছোট ভাই যেতো, বাট ওকে নিলো না সাথে....
এদিকে সারাদিন বরের কোন খোজ নাই, ফোন দিলাম বলে মিটিং আছে রাত হবে বাসায় যেতে।।
আমার মন মানছে না, ঠিক বুজতে পেরেছি ভাবির সাথেই আছেন তিনি!! ছোট ভাইকে স্কুলে পাঠালাম সন্ধার এক্টু আগে। যেহেতু স্কুল আমাদের বাড়ির কাছেই...
-- ভাই এসে বললো আপু আজ নাকি দুলাভাই স্কুলে যায়নি, ছুটি নিয়েছে!! মাথায় আকাশ ভেংগে পড়লো!! প্রেগন্যান্সির টাইমে এত্তো পেইন আর নিতে পারছিলাম না ,,
দিন দিন প্রেশার বাড়ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে!! ভাবলাম আজ একটু ধরা দিতেই হবে।। তারা হয়তো ভাবছেন তাদের লীলাখেলা কেউ জানেনা....
রাত ৯টা, কারো কোনো খবর নাই!! বাড়ির পাশের এক দুলাভাই হয় দুসম্পর্ককের... তিনি বাড়িতে এসে বলতেছে আমার মায়ের কাছে, কাকিমা সাথীর জামাই কে নিয়ে কি ব্যাটার বউ শহরে গেলো নাকি?
আমার মা বয়স্ক, গ্রামের সহজ সরল মানুষ সে বলে না না তুমি যেনো কাকে দেখেছো।। বউমা একা একাই বাড়িত গেছে......
..
..
আমার আর বোজার বাকি রইলো না, আমার ছোট ভাইটা আমাকে জরিয়ে ধরে বলে দিদি(ও আমাকে দিদি বলেই ডাকে ছোট থেকে) একটা কথা বলবো??
আমি বলি বল, বলে বকা দিবা নাতো? আমি বলি কিছুই করবো না তুই বল...
-
-
__ভাই বলে দুলাভাই আর ভাবি যেনো কেমন কেমন করে, আমার ভাল্লাগে না। দুলাভাই শুধু ভাবির দিকে তাকাইয়া থাকে, আরো অনেক কিছু...
কস্টে আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে, তার মানে আমার ভাইটা ও বুজতে পেরেছে তাদের আচার আচরন... ওর চোখ থেকে পানি পড়ছে আর বলছে, দিদি তূমি কস্ট পেলে খুব কান্না আসে আমার..৷ তুমি এখন আর ভালোবাসোনা আমাকে, তুমি সারাদিন আমার সাথেও কথা বলোনা... আমার পড়া ধরোনা!! এই গুলা আমার ভাল্লাগে না।।
বাবা মারা যাওয়ার পর আমি আমার ছোট ভাইয়ের সব থেকে প্রিয় ছিলাম, ওকে খাইয়ে দেয়া, পড়িয়ে দেয়া সব আমিই করেছি।। অথচ এখন এই মানষিক প্রেশারে ওর সাথে কথা বলা পর্যন্ত আমি অফ করেছি!! নিজের কাছে তখন নিজেকে খারাপ লাগলো।। কাদের জন্য আমি আমার আপন জনদের কস্ট দিচ্ছি!!
ভাইকে বুজালাম, আমি অসুস্থ তাই এমন করছি। আবার সব ঠিক হয়ে যাবে...
আর দুলাভাই ভাবিকে নিয়ে এমন বলতে নেই, তাদের সম্পর্ক ইয়ারকি, মশকারি করার। তাই তারা এমন ভাবে কথা বলে, তাকায় আর কিছুই না....
রাত ১টায় তিনি বাসায় আসলেন, দেখেই মনে হয় চুরি করে এসেছে।। মুখ দেখেই বোজা যাচ্ছে, মা উঠে ভাত দিলো, সেটা খেলো না। তিনি নাকি খেয়ে আসছেন কোন স্টুডেন্ট এর বাসা থেকে..
আমিও খাটের উপর বসে আছি, আমাকে বার বার লাইট অফ করে ঘুমানোর জন্য বলতেছে। বাট আমি আজ ঘুমাবো না, তাকে কিছু বলবো তাই সুযোগ খুজছি।।
তার একটা গুন ছিলো, এই পর্যন্ত যাই করেছে আমার সাথে কখনো খারাপ ব্যবহার করেনি। হয়তো আমি করিনি তাই সেও করেনি....
আমি তার ফোনটা হাতে নিলাম, আর বললাম কোন স্টুডেন্ট এর বাসায় খাইছেন তাকে কল দেন তো..( আপনি করে বলতাম, অনেক সিনিয়র ছিলো তাই)
কথা শুনেই যেনো মাথা ঘুরে গেলো, বলতেছে এতো রাতে ফোন দেয়া ঠিক হবেনা। সকালে দিও,,, সে হয়তো ভেবেছে আমি ঠান্ডা মানুষ, এইসব নিয়ে আর কথা বলবো না।।
__আমি আর কথা না বলে শুয়ে পড়লাম, কাদছি শুয়ে শুয়ে!! কাদতে কাদতে হিস্কি উঠে গেলো.. তিনি বললেন কি হইছে এভাবে কাদছো ক্যানো? শরির খারাপ কিনা বার বার জিজ্ঞেস করতেছে....
আমি প্রচন্ড পরিমানে কাদছি আর বলছি, আমার ভাইদের মান সন্মান আপনি খাইয়েন না। আমার কিছু হলে আমার ভাইয়েরা শেষ হয়ে যাবে... সে তো অবাক!!
বার বার জিজ্ঞেস করছে কি হইছে বলো, খুলে বলো আমাকে.. তখন বললাম, আমি শুধু একটা কথাই বলতে চাই। আপনার মনে যদি কিছু থেকে থাকে সেটা ধুয়েমুছে পরিস্কার করুন। আল্লাহ এটা সয্য করবে না, এতিমের উপর অত্যাচার আল্লাহ মেনে নিবে না... আপনার পায়ে পড়ি, আপনি আমার পরিবারের শান্তি কেড়ে নিয়েন না.... এভাবে কাদছি আর বলেই যাচ্ছি।। কি বলবো, কিভাবে সব বলবো তখনো বুজে উঠতে পারিনি!!
পরের দিন সকালে শ্বাশুড়ি, ভাশুরের ছেলেমেয়েরা আমাকে দেখতে
আসলো, অনেক কিছু নিয়ে আসলো।। তারা সবাই আমাকে খুব ভালোবাসতো...
বর ও খুবই ভালো ব্যবহার করতেছে, বিকালে সবাই বসে আছি এর মাঝে ভাবি বারবার ওর ফোনে কল দিচ্ছে। আমি হাত থেকে ফোন টা নিয়ে রিসিভ করে রেখে দিলাম!!
ভাবি ভাইয়া ভাইয়া করেই যাচ্ছে, অনেকক্ষন পরে আমি হ্যালো বললাম উনি কেটে দিলো।। বর আর সেদিন বাহিরেও যায়না আর কথাও হয়তো বলেনি। ভাবি রাত ৯টার দিকে আবারো কল দিচ্ছে, উনি রিসিভ করলো না..
__আমি শ্বাশুড়ি কে বললাম আপনার সাথে আমি বাড়িতে চলে যাবো, ওই খানেই ডেলিভারি করাবো।। শ্বাশুড়ি তো খুশি, কিন্তু আমার মা তো কিছুতেই যেতে দিবে
না এই অবস্থায়।।
বর হয়তো বুজতে পেরেছে আমি তার কুকির্তী বুজতে পেরেছি, তাই সে সেদিন রাত থেকেই স্বাভাবিক আচরণ করছে.. বাহিরে থাকেনা সকাল সকাল বাসায় চলে আসে। আমাকেও অনেক কেয়ার করে…. হয়তো আমি তাকে বুজাতে সক্ষম হয়েছিলাম।।
আমিও ভেবেছিলাম সবার মান সন্মান ঠিক রেখে এর একটা ফয়সালা হোক, ঠিক তাই হয়েছে এটাই ভেবেছি!!
__১০দিনের মতো ভালোই কাটলো, এর মাজে ভাবি আমার ফোনে কল দিয়ে
বলতেছে ছোট ভাইকে পাঠানোর জন্য। খুব রাগী কন্ঠে কথা বলতেছে!!
-
-
--আমিও বললাম একা যখন যেতে পারছেন একাই আসেন, আবার ওর কেনো যেতে হবে। ও মা!! সকাল হতে না হতেই উনি হাজির!!
রাগী রাগী মুডে আমার বরের দিকে তাকাচ্ছে, বুজতে পারলাম এতো দিন হয়তো কথা বলেনি তাই রাগ দেখাচ্ছে!!
__বর ভাবিকে পাত্তা দিচ্ছেনা এবার! এখন আর চোখাচোখি করছে না, স্কুল থেকে এসেই আমার রুমে ঢুকছে আর বের হয় না। এদিকে ভাবি তো জ্বলে পুড়ে একাকার।।
_একদিন বিকেলে আমরা শুয়ে আছি, ভাবিও আসলো। এসে বলতেছে সাথী কিচ্ছু ভালো লাগছে না। হয়তো বেশীদিন বাচবো না!! আমি শুনে হেসে দিলাম,,, বল্লাম আপনার শরীরে কিছু হয়নি আপনার মনের রোগ হইছে। ভাইয়াকে আসতে বলেন...
ও মা!! উনি বলে তোমার ভাইয়া কি সব অসুখ সারাতে পারবে???
আমি যেনো কিছু বুজেও না বুজে আছি! বর উনার কথাই শুনছে
না, তিনি একমনে ফোন টিপেই যাচ্ছে!!
এভাবে বেশ কিছুদিন ভালোই চলতে লাগলো, আমি প্রতিমাসে ডঃ চেকাপে যেতাম। আমার ছোট ভাই নিয়ে যেতো, আর শহরে হসপিটালের কাছে আমার ছোট ননদের বাড়ি.. তাই ওই ছোট আপু সাথে থেকে ডঃ দেখিয়ে দিত।।
_আমাদের বাড়ি একদম গ্রামে, শহরে যেতে প্রায় ৩ঘন্টার মতো লাগতো।। সেদিন ডঃ এর অনেক গুলো অটি ছিলো, সব গুলো সিরিয়াস রোগী।। তাই আমাকে দেখতে দেখতে রাত ৯টা বেজে যায়....
তাই ননদ বললো আজ আমার বাসায় থেকে যাও, কাল বাড়িতে যাবে। আর এতো রাতে গাড়িও পাবে না।। আমার মন সায় দিচ্ছিল না,, কেনো জানি ছটফট করতে ছিলো বাড়িতে যাওয়ার জন্য।। কিন্তু কোনো উপায় তো নাই, তাই থেকেই গেলাম!!
সারারাত এক ফোটাও ঘুম হলো না,, ভোর রাতে বড় ভাইয়া কল দিছে। ফোনের রিং শুনেই কেমন যেনো কলিজার পানি শুকিয়ে গেলো... কেনো যানি মনে হচ্ছে বিপদের সংকেত...
__ভাইয়া খুব নরম নরম কথা বলতেছে, বললো তুই সকাল সকাল বাসায় যা, আমিও আজ বাড়িতে যেতে পারি। আমি বার বার বললাম ভাইয়া সমস্যা কোনো আমাকে বলেন তাহলে... ভাইয়া আমার কিছুই বললো না, আমি অসুস্থ হয়তো কিছু ধরা দেয়নি!!
আমরা ছোট দুই ভাই বোন ছিলাম বড় ভাইয়ের একটা অংশ!! নিজে হাজার কস্ট করেও আমাদের কখনো কস্টে রাখেনি...
বর কে কল দিলাম, সে রিসিভ করেই বলতেছে তুমি আমাদের বাড়ি নামো। এখন থেকে আমরা আমাদের বাড়িতেই থাকবো।। আমার বুজতে কিছু বাকি রইলো না, যে বাড়িতে কোনো অঘটন ঘটেছে।।
সকাল সকালই চলে আসলাম, বর স্কুলে, বাড়ির সব কিছুই স্বাভাবিক।।
ভাই পরের দিন বাড়িতে আসলো!! ভাবির সাথে কথা বলছে না, মন ও ভালো নেই। মন মরা হয়েই আছে, আমি বার বার জানতে চাইলাম কিছুই বলেনা....
পরে পাশের বাড়ির সেই দুলাভাই এসে ভাইকে ডেকে নিয়ে গেলো, পাশের বাড়ি বলতে আমাদের বাড়ি আর দুলাভাইদের বাড়ি মাঝখানে একটা পুরুষ... আমাদের গ্রামের বাড়ি তো সবাই ওই পুকুর দিয়েই কাজ করে,,,, আর সবার টয়লেট ছিলো বাহিরে...
__রাতে ভাই আর ভাবি তুমুলঝগড়া!! কেউ কারো সাথে থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি!!
-মা ভাইকে চড় মারলো, বকাবকি করে থামালো... ভাবি তো চিল্লাপাল্লা করে এলাকার মানুষ একাকার করে ফেলছে!! আমি এর মাঝে কিছুই জানি না, কিছুই বুজতে পারছি না।। কি কাহিনী!!
--মা ওই দুলাভাইয়ের কাছে জানতে চাইছে, কি হইছে। কি বলছো তুমি, আমার ছেলে কেনো এমন করে...?
__দুলাভাইয়ের কথা শুনে তো আমি শকড!!
__সে নাকি পরশু রাতে ভাবিকে আর আমার বরকে হাতেনাতে ধরেছে পুকুরঘাট থেকে( পুকুরে সিড়ি বাধানো ছিলো, সেখানে সবাই বসতো আর রাতে ওইখানে বসেই বর কথা বলতো)।। পরে নাকি ভাবি ওই দুলাভাই এর পায়ে ধরেছে, কাউকে না বলার জন্য।। দুলাভাই তখনি আমার ভাইকে সব ফোন করে বলে দেয়...
__এগুলো শুনে আমি চুপচাপ বসে পড়ি, সবাই আমাকে দেখছে। আমাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছে, আমার যদি কিছু হয়। কিন্তু এই কুকর্ম তো সবার আগে আমার চোখেই পড়ে...
গ্রামের সবাই আমাকে খুব ভালোবাসতো, খুব নরম ছিলাম। আর খুব মিশুক ছিলাম, দুলাভাইয়ের বউ ওই আপুর বেবি হওয়ার আগে আমি উনার সব কাজ করে দিতাম, সেই থেকে উনারা আমাকে বোনের মতোই দেখতো....
_দুলাভাই আরো বলে সেদিন শহরের একটা হোটেল(আবাসিক) থেকে বের হতে দেখছে ওদের দুইজন কে..….
চলবে....

Saturday, August 15, 2020

 এবং তারপর কি?

এবং তারপর কি?

 এবং তারপর কি?

ডায়েরীর শেষাংশ'
©নুসরাত শর্মি



এক পৃথিবী অবাক বিস্ময় সূচক দৃষ্টিতে তোমার চলে যাওয়া দেখলাম!
তুমি যতো দূর পা বাড়াচ্ছো আমার দু-চোখ ঝাপসা হতে লাগলো,
কী যেনো বলতে চেয়েছিলাম তোমায়!
কিন্তু বলতে পারছিলাম না কিছুতেই।

প্রতিবারি একটা কথা কোথাও যেনো বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসছে।
তোমার কান অবধি পৌঁছাতে পারছিলো না!

মাঝে মাঝে এমন কিছু সময় আসে যখন কিছু শব্দ উচ্চারণ করতে গেলেই গলায় কাটার ন্যায় আটকে যায়।
তাই আর বলা হয়ে উঠেনি,
পরিশেষে তুমি যখন পৌঁছে যাও তোমার গন্তব্যে!
আমি তখন সস্তির কাধে অশ্রুপ্রলেপ দিতে শুরু করি।

তোমার চলে যাওয়ার প্রতিটা পায়ের শব্দ আমার কানকে তীব্র ভারী করে তুলে!
আমি চিৎকার করে কাঁদতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু কাঁদতে পারিনি।

অশ্রুজল চোখের কোণায় টলমল করতেই
আমি দ্বীর্ঘশ্বাস আর এক ফোঁটা চোখের জল ডায়রীর শেষ পাতায় ঠাঁই দিলাম,
কলমের কালি আর মধ্যরাতে মোমের নিভূ নিভূ আলো সাক্ষি ছিলো!
আমার দুঃখ গুলো একের পর এক তারা দেখলো,
কী যে যন্ত্রনা দেয় তোমার চলে যাওয়া পায়ের পদধুলি।

ভীতরটা খরায় খা খা করতে থাকে!
অনুভুতিহীন নির্বাক চোখে তারা দেখে যায়
আমার ডায়রীর শেষাংশ কতোটা বিষাদে ভরপুর।
'ডায়েরীর শেষাংশ'
©নুসরাত শর্মি

Saturday, August 1, 2020

 বাস্তব জিবনের_গল্প পর্বঃ- ০১

বাস্তব জিবনের_গল্প পর্বঃ- ০১

 বাস্তব জিবনের_গল্প

পর্বঃ ০১
লেখাঃ অর্নব



আমার নাম ইসরাত জাহান সাথী, সবাই সাথী নামেই ডাকে। ২০০৯ সালে পারিবারিক ভাবেই আমার বিয়ে হয়, তখন আমি অনার্সে ভর্তি হয়েছি মাত্র।

__বিয়ের পরে ভালোই ছিলো সব, শ্বশুর বাড়ির সবাই খুব ভালোবাসতো আমাকে। আমার বর ছিলো হাই স্কুলের ইংলিস টিচার!!
.
.
--আমাদের বাড়ি আর শ্বশুর বাড়ির দূরত্ব ছিলো ১০কিলোর মতো। আমাদের বাড়ি(বাপের বাড়ি) থেকে আমার হাসবেন্ডের স্কুল কাছে ছিলো।।
__তাই বেশির ভাগ টাইম ই আমি আমাদের বাড়িতে থাকতাম, আর বর স্কুল+টিউশনি করে রাত ১০টার দিকে আমাদের বাড়িতে আসতো। ও ইংলিসের খুব ভালো শিক্ষক ছিল, আমাদের বাড়ি একদম গ্রামে। এখানে ওর থেকে আর ভালো কোন শিক্ষক ছিলো না..
বেশিরভাগ টাইম ও স্কুলে থাকতো!!
.. সব ঠিকঠাক ছিলো, দুই বছর খুব ভালোই সংসার কাটলো।
__২০১১তে আমি প্রেগন্যান্ট হই, শ্বশুর বাড়ি, বাপের বাড়ির সবাই খুব খুশি। আমার হাসবেন্ড ও খুব খুশি হন!!
.
.
চারমাসে আমার প্রচুর ব্লাড যেতে শুরু করলো, ডঃ এর কাছে গেলাম সে বেড রেস্ট দিলো। চলে এলাম বাপের বাড়ি একেবারের জন্য,,, বেবি হওয়ার পরে যাবো এই প্লান করেই চলে গেলাম।
_আমাদের বাড়িতে আমি, আমার মা, ছোট ভাই ক্লাস টেন এ পড়তো তখন, আর বড় ভাবি, এই নিয়ে আমাদের সংসার। আমার বাবা নাই, ছোট ভাই হওয়ার তিন বছর পরেই বাবা মারা যায়। সেই থেকে বড় ভাই আর মা অনেক কস্ট করে আমাদের মানুষ করেন।
বড় ভাইয়া নো বাহিনী জব পায়, সেই থেকে আমার মায়ের কস্ট ঘুছালো..
.
.
_ মা বয়স্ক ছিলো তাই ভাবি বাড়িতেই থাকতো.. ভাবি খুবই মিশুক ছিলো, যেকোনো মানুষের সাথে খুব তারাতারি মিশতে পারতো।
------আমি বেডরেস্ট যাওয়ার পরে স্বামী সহবাস নিষধ ছিলো, , একে বারেই কাছে যাওয়া যাবেনা।।
বর এই নিয়ে প্রথম প্রথম একটা ঝামেলা করেছে, বাট তারপর লক্ষ্য করলাম সে ভালোই আছে।। পাশে শুয়ে থাকলেও আমার দিকে তাকাচ্ছে না, আমার গায়ে হাত ও লাগাচ্ছে না এমন..
.
.
-আমি ভাবলাম হয়তো ডঃ নিষেধ তাই দূরে দূরে থাকছে, বাট এটা ব্যাপার না!!
-
-
দিন যতো যাচ্ছে বরের অবহেলা ততোই বাড়ছে, আগে রাতে বাসায় আসতো আর এখন আসরের আজানের পর পরই বাসায় আসে।। আর আমার ভাবির সাথে খুব একটা অন্য রকম সম্পর্ক..
আগেও ভালো সম্পর্ক ছিলো, যেহেতু ভাবি অনেক মিশুক ছিলো তাই। বাট এখন কার রিলেশন টা চোখে পড়ার মতো। সন্দেহ করিনি কখনো, কারন ভাবি অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলো। এবং এতো দিনে তার কোনো খারাপ কিছু চোখে পড়েনি...
__ একদিন ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যায়, উঠে দেখি বর পাশে নেই!!
__আমিও ধীরে ধীরে উঠলাম, উঠে দেখি সিড়ির উপর বসে বসে ফোন টিপছে।
বললো ঘুম আসছিলো না, তাই উঠে আসলাম।।
,
,
একদিন ওর গেঞ্জি খুজছে, কোথাও পাচ্ছে না। পরে ভাবি এনে দিলো তার রুম থেকে, আমিও ভাবলাম হয়তো ভাবি কাপড় আনার সময় সব একসাথে এনেছে তাই তার রুমেই ছিলো...
__ তারপর স্কুল থেকে বিভিন্ন সময় কিছু প্রয়োজন হলে ভাবির নাম্বারে কল দিতো, ভাবি এসে আমাকে বলতো।।
….... আরেকদিন ভাবির নাম্বারে কল দিছে আমিও সামনে তাই ভাবি আমাকে ফোন টা দিলো। আমি কথা বলতেছি, আর ভাবি উঠে অন্য রুমে গেলো...
কি যেনো মনে করেই হঠাৎ ভাবির ফোনের ইনবক্সে গেলাম, এটাই হয়তো আমার ভুল ছিলো....
__ ইনবক্সে দেখি বরের মেসেজ, একটা মেসেজ এমন ছিলো ' কি দরকার ছিলো আমার রাতের ঘুম টা কেড়ে নেয়ার? এখন না পারছি তোমাকে বুকে নিতে না পারছি ঘুমাতে'
এই মেসেজ দেখে আমি মাটির নিচে ঢুকে যাবো, নাকি পানিতে ঝাপ দিবো বুজতে পারছি না। হাত পা থরথর করে কাপছে... নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মনে হচ্ছিলো মিনিটের মদ্ধে আমি পাথর হয়ে গেছি।।
ভাবতেছি এটা কিভাবে সম্ভব, আবার মেসেজ টা পড়ছি। বার বার নাম্বার টা মিলাচ্ছি, বাট একি জিনিস চোখের সামনে। কিন্তু সত্যিটা আমি মেনে নিতে পারছি না। এটা কোনো ভাবেই যে মেনে নেয়া যায় না...
_ প্রেশার বেড়ে গেলো, শ্বাসকষ্ট শুরু হলো। মা চিৎকার দিয়ে বলছে আমার মেয়েটা কেমন জানি করতেছে। তোমরা কে কোথায় আছো, সবাই এসো।।
মায়ের প্রতিটি কথা কানে যাচ্ছে, কিছু যে বলবো সেই শক্তি নেই আমার। ভাবি, আশেপাশের সবাই আসলো,, কিছুক্ষন পরে কথা বলতে পারলাম...
___বর ও শুনে তারাতাড়ি বাসায় আসলো, ততোক্ষনে আমি কাউকে কিছু বললাম না। শুধু চোখের পানি পড়ছে, আর হাত পা কাপছে...
ভাই অনেক কস্ট করে বিয়ে দিয়েছে, একা ইনকাম করে। আর বিয়েতেও অনেক খরচ হয়েছে,,, এরপর এমন কছু শুনলে ভাই, আমার মা সবাই মরে যাবে। আমি খুব আদরের,,, এই ব্যাপার গুলো কেউ মেনে নিতেই পারবে না।
রাতে বর বল্লো, কি ব্যাপার হঠাৎ করে কি হলো তোমার। সকালেও তো সব ঠিক ছিলো? আমি কথা না বলেই অন্যদিকে ফিরে শুয়ে আছি...
আমার মাথায় হাত দিচ্ছে, তখন আরো বেশি ঘৃনা হচ্ছিলো!!
---কাদতে কাদতেই ঘুমিয়ে গেলাম!! রাত ২/৩টা হবে, তখন দেখি বর পাশে নাই!!
আমি উঠে টর্স নিয়ে বাহিরে গেলাম...
চলবে....
গল্পঃ বাস্তব জীবনের_গল্প
লেখক...অর্নব
যদি আপানাদের গল্প টা ভালো লাগে তো কমেন্টে জানাবেন। আর গল্প টা আপনাদের কাছে ভালো না লাগলে এই খানেই অফ করে দিবো।